আমার সম্পর্কে…

’৯০-এর দশকের শেষদিকে স্কুলে পড়াকালীন টুকটাক লেখালিখি করলেও মূলত বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকেই সক্রিয় সাংবাদিকতার সাথে যুক্ত হই আমি। এসএসসি পাশের আগেই সংবাদ-বিষয়ক আমার প্রথম লেখা ছাপা হয় দৈনিক আল মুজাদ্দেদ পত্রিকায়। উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালীন ঢাকার বিভিন্ন মাসিক এবং সাপ্তাহিক কাগজে সংবাদদাতা এবং প্রদায়ক হিসেবে কাজ শুরু করি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষে পড়ার সময় থেকেই জাতীয় দৈনিক আজকালের খবর-এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরুর মাধ্যমে মূলধারার সাংবাদিকতায় যুক্ত হই।

এ সময় প্রথম আলো’র আঞ্চলিক প্রকাশনা আলোকিত চট্টগ্রাম-এ এবং দৈনিক ইনকিলাব-এর শিক্ষাঙ্গন পাতার প্রদায়ক হিসেবেও কাজ করতে থাকি। পাশাপাশি সম্পাদনা করি ‘ধূপছায়া’ নামে একটি লিটলম্যাগ। এরপর বছরখানেক ঢাকার দৈনিক মানবজমিন-এর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে এবং পরে ওই পত্রিকারই চট্টগ্রাম ব্যুরোতে স্টাফ রিপোর্টার পদে কাজ করি। পরে মানবজমিন পত্রিকা থেকে চলে আসি চট্টগ্রামের প্রাচীন ও জনপ্রিয় আঞ্চলিক পত্রিকা দৈনিক আজাদীতে। এটি ২০০৫ সালের ঘটনা। এরপর প্রায় ১০ বছর দৈনিক আজাদীতে কর্মরত ছিলাম। ২০১০ সালের ২০ জানুয়ারি দৈনিক আজাদী’র ঢাকা অফিসে বদলি হই। পত্রিকাটির ঢাকা অফিসে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে পেশাগত দায়িত্বপালন করি প্রায় পাঁচ বছর।

প্রায় একই সময়ে ২০১০ সালের ১৫ মে যোগ দিই প্রকাশিতব্য জাতীয় দৈনিক পত্রিকা অধিনায়ক-এ। সেখানে কাজ করি বছরখানেক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘অধিনায়ক’ প্রকাশিত হয় নি। নতুন ধারার দৈনিক ‘আমাদের সময়’ কিনে নেয় উদ্যোক্তারা। এরই অংশ হিসেবে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করি ওই দৈনিকটিতেও। পরে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যোগ দিই ভোরের কাগজ-এ। সেখানে কাজ করি চার বছরেরও বেশি সময়। পত্রিকাটিতে আমার কাজের ক্ষেত্র ছিল সচিবালয়, সংসদ, রাজনীতি, পরিবেশ, এনজিও, মানবাধিকার ইস্যু, স্বাস্থ্য-শিক্ষা ইত্যাদি।

সাংবাদিকতা ও চাকরির পাশাপাশি কয়েকটি অনলাইন কয়েকটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠা করি। এর মধ্যে অলমিডিয়ালিঙ্ক, বার্তাবাংলা, অলনিউজলিঙ্কার, বান্ধব সোশ্যাল মিডিয়া, এনজিও নিউজ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এরই মধ্যে আমি জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম, ইউনেস্কো, ইউএনএইড্স, বিশ্বব্যাংক, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (PIB) এবং বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কয়েকটি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ অর্জন করি।

এইচআইভি এবং এইড্স বিষয়ে সেরা প্রতিবেদনের জন্য ২০০৭ সালে জাতিসংঘের ‘ইউএনএইডস মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’, খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সেরা প্রতিবেদনের জন্য ২০০৮ সালে জাতিসংঘের ‘ডব্লিউএফপি মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’, মানবাধিকার বিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য ২০০৯ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি ও রেড ক্রসের সৌজন্যে ‘ডিআরইউ-আইসিআরসি বেস্ট আর্টিকেল অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করি।

সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য একই বছর বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’, এইচআইভি এবং এইডস-এর সামাজিক কলঙ্ক ও বৈষম্যবিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের জন্য ২০০৯ বিশ্বব্যাংক ও নারী উন্নয়ন শক্তির ‘জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড’, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য ২০১০ সালে যাত্রী ফেলোশিপ এবং এলজিবিটি মানুষদের স্বাস্থ্য ও মানবাধিকার বিষয়ে রিপোর্টের জন্য ২০১১ সালে ইউনেস্কো-বন্ধু মিডিয়া ফেলোশিপ অর্জন করি। এ ছাড়া তামাক বিষয়ক সেরা প্রতিবেদনের ২০১১ সালে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও প্রজ্ঞা সাংবাদিকতা ফেলোশিপ এবং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করি। এর পরের বছরও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট ও প্রজ্ঞা সাংবাদিকতা অ্যাওয়ার্ড লাভ করি।

২০১২ সালে জার্মানির ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর জার্নালিজম (IIJ)-এর ফেলোশিপ অর্জনের মাধ্যমে ভারতের চেন্নাইয়ে এশিয়ান কলেজ অব জার্নালিজম (ACJ)-এর প্রশিক্ষণে অংশ নিই। একই বছর আন্তর্জাতিক এনজিও অক্সফামের ফেলোশিপের মাধ্যমে কাতারের দোহায় জাতিসংঘের বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিই।

২০১৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্টস (ICFJ)-এর ফেলোশিপ পেয়ে নেপালে দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের সম্মেলন ও প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাই।

২০১৪ সালে ইউরোপিয়ান ইয়্যুথ প্রেসের ফেলোশিপ অর্জনের মাধ্যমে অরেঞ্জ ম্যাগাজিনের হয়ে কাজের সুযোগ মেলে জার্মানিতে। এরপর থেকে স্থায়ীভাবে জার্মানিতে বসবাস শুরু করি। বর্তমানে জার্মানিতে ডিগবাজার (DigBazar GmbH) নামে একটি স্টার্টআপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালন করছি। সেই সঙ্গে জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদপত্র বার্তাবাংলা’র প্রধান সম্পাদক এবং অলমিডিয়ালিঙ্ক-এর মিডিয়া কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছি। সেই সঙ্গে ব্লগিং, ভ্লগিং ইত্যাদির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট।

রিপোর্টিংসহ প্রশিক্ষণ ও পেশাগত কাজে ফ্রান্স, ইতালি, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, নেদারল্যান্ড, বুলগেরিয়া, মালয়েশিয়া, রোমানিয়া, স্পেন, সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, কাতার, নেপাল, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছি।

‘মাহমুদ মনি’, ‘মনি মাহমুদ’, ‘মৃন্ময় বুস্তান’ প্রভৃতি নামে লেখালেখি করলেও প্রকৃত নাম মো. মাহমুদুল হাসান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে স্নাতক (সম্মান) এবং ২০০৬ সালে স্নাতকোত্তর (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করি। আমার স্ত্রী নাজমুন নাহার (চুমকী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জনসহ কলেজে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আমার একমাত্র সন্তান সৌহার্দ মাহমুদের বয়স সাত বছর এবং সে জার্মানির নর্থরাইন ওয়েস্টফেলিয়া রাজ্যের একটি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র।

আমার জন্ম ১৯৮৪ সালের ১০ নভেম্বর, গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর মনোহরদীর গোখলায়। বাবা-মা দুজনই সরকারি চাকরিজীবী ছিলেন। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আমি সবার ছোট।