এমন ‘আজাইরা’ ভোটের কী দরকার?

Bangladesh Election

ছবি : দ্য ইকোনমিস্ট

মাঝে মাঝে মনে প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন না হলে আসলে কী হয়? পৃথিবীর অনেক দেশেই তো নির্বাচন নেই, ভোট নেই, গণতন্ত্র নেই। তাতে কী এমন ক্ষতি হয়েছে কার? তবে প্রিয় দেশ, বাংলায় নির্বাচন না হলেও এমন কী ক্ষতিই বা হবে? জাতীয় নির্বাচনের নামেও যে মশকরা করা হলো, তারও কী দরকার ছিল? সেটা তো করলেন, তারপরও কেন থেমে নেই আপনারা। নিজেদের মিত্রবাহিনী জাপা’কে বিরোধী দলে, আবার সরকারে রেখে অভিনবভাবে দেশ চালাচ্ছেন। চালান, ভালো কথা। তারপরও যে কয়েকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলো সেগুলোতে কি আসলে নির্বাচন? ভোটাভুটি কি হয়েছে সেগুলিতে? এমন নির্বাচন না হলে দেশ-জাতির কী এমন ক্ষতি হতো?

নির্বাচনের নামে কেন শুধু শুধু জনগণের টাকার শ্রাদ্ধ করছেন? এই তো আজ ভোটাভুটির নামে যে রীতিমতো একটা পুকুরচুরি হয়ে গেল, তাতে তো ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। মাত্র চারবছর আগে সেই খরচ ছিল সবে ৩৫ কোটি টাকা। আর এবার সেই খরচ নিয়ে ঠেকিয়েছেন ১০০ কোটি টাকায়! চারবছরে মানুষের আয় কি তিনগুণ বেড়েছে? যদি তা না-ই বেড়ে থাকে তবে আপনারা ভোটের নামে কেন তিনগুণ খরচ করেছেন? আর যদি খরচ করেই থাকেন তাহলে ভোটটা কারচুপিবিহীন করার কথা একটু ভাবলেন না কেন? হয়তো বলবেন, ভেবেছি, ভোট তো সুষ্ঠু-সুশৃঙ্খলভাবে হয়েছে। কিন্তু কোথাও তো সেই কথা ও ভাবনার লেশমাত্র দেখলাম না!

আর কোনো ‘মেইনস্ট্রিম’ মিডিয়া সেই খবর দীর্ঘক্ষণ প্রচার করতে পেরেছে বলেও তো বোধ হয় না। ভাগ্যিস, ফেসবুক বলে একটা মিডিয়া এখনও বাংলাদেশে সচল আছে! তার কল্যাণে মাত্র দু-একটা দৃশ্য দেখেই চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। আর দেখার দরকার নাই! হাড়ির ভাত কিন্তু সব টিপে দেখার দরকার হয় না! আর ভালো রাঁধুনি হলে তো ভাত টেপারও প্রয়োজন হয় না! ভাতের ফেন/মাড় দেখেই বুঝতে পারে ভাত কদ্দূর হলো! তো এমন দৃশ্য দেখেও তো বোঝা যায়, ভোট কতদূর হলো!

আমি রাজনীতি করি না, যদি কিছুটা করেই থাকি তবে আওয়ামী লীগের আদর্শকেই বিশ্বাস করি। কিন্তু এখন তো বিএনপির সুরে বলতে হবে, ভোটের নামে বাংলাদেশে প্রহসন হচ্ছে। জনগণের সঙ্গে দিনদুপুরে প্রতারণা হচ্ছে! তো এমন পাগলামির মানে কী? একটা কথা বলে রাখি, জনগণকে এতটা বোকা ভাবার কোনো মানে হয় না। তারা সুযোগ পেলে সমুচিত জবাব দেবে! সুতরাং সাবধান হয়ে যান!

মানুষের হাতে হাতে যখন সত্যচিত্র ঘুরপাক খাচ্ছে, তখন পলক নামে এক ‘প্রতি-মন্ত্রী’ অপলকভাবে তার বক্তব্য আওরে যাচ্ছেন ফেসবুকে। তার ‘ইশ্‌ট্যাটাসে’ শোভা পাচ্ছে এই কথাগুলো…

“পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল ,
জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়নের প্রতিফলন।

এই ফলাফল ,
নিরীহ জনগনের উপর বিএনপি-জামায়াতের অত্যাচারের প্রতিফলন।

এই বিজয় ,
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের অবমাননা করে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের প্রতি ঘৃণার প্রতিফলন।

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু।

পৌর নির্বাচন ২০১৫
২৩৪ পৌরসভার মধ্যে ২১৮টির মেয়র পদের ফল
আওয়ামী লীগ ১৬৯
অন্যান্য ২৭
বিএনপি ২১
জাতীয় পার্টি ১”

তিনি যেহেতু একটি দলের নেতা ও কর্মী, তাই তিনি দলের পক্ষে আর বিরোধীদের বিপক্ষে যা খুশি তা-ই বলতে পারেন। তার কথা কানে নেওয়ার সময় জনগণের নেই। কিন্তু বড় আফসোস, প্রধান নির্বাচন কমিশনারও একই সুরে কথা বলেছেন। ‘দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ ছাড়া নাকি সবই ‘ঠিক’ আছে! জনগণ যে বিএনপিকে ভালোবাসে, তাও বলার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু জনগণ সবসময়ই একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন আশা করে। তবে সেই আশায় সব সরকারই সুযোগ পেলে ‍গুঁড়েবালি দিয়ে যাচ্ছে। ভোটের নামে এমন ‘আজাইরা’ ভোটের আসলে কী দরকার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *